Tuesday, February 2, 2016

শিকলে বাধা এক জীবনের গল্প “জীবন শিকল”

-আরিফুল ইসলাম
কবি ও সম্পাদক


মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে স্তরে অদ্ভুত এক রহস্য কনিকার সন্ধ্যান লুকায়িত অনিবার্য। রহস্যঘেরা ও বিচিত্রতার মঞ্চে মহানায়ক কতগুলো কংকালসারী মানব। রহস্যঘেরা বাস্তবের সম্মুখীন হওয়া প্রতিটি স্তর। প্রতিটি বাঁক। নব্বই দশকের তুখোড় তারুণ্যপ্রাণ নিবেদীত লেখক, গবেষক ও কথা সাহিত্যিক মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন তার এক অনবদ্য লেখনিতে প্রাণ সাজানোর ভঙ্গিমায় গেঁথে দিয়েছেন জীবনের প্রতিটি বাঁকের নিন্দনীয় ও উল্লসিত অস্তিত্বের দম্ভ ও উত্থান। বাস্তবমূখী জীবনের উত্থান-পতনের দুই মহানায়কের ছদ্মনামে নিপুন কলাকৌশলী কিঞ্চিৎ হাজির করেছেন জজ নূরুল ইসলাম ও কর্ণেল শংকর রেমা কে। অকপটে বলতেই হয় মনুষ্যত্ব যদি কারও মনে লুকায়িত না থাকে তাকে কি কখনো মানুষ বলা চলে? বা তাকে কি মানুষের সারিতে জায়গা দেওয়া যায়। এমনি দুটি চরিত্র তারা। গুরুগম্ভীর আর নির্ভীক খাঁটি সুতোয় যাকে বেঁধে নেওয়া যায় সহজেই তার নাম অনায়াসেই ‘ললিতা’ বলতে হবে। জ্যোৎন্সালোকের ফ্রেমে বাঁধা রাতকে কতটা মোহনীয় মায়াজালে আবদ্ধ করেছেন লেখক সত্যি তা ভীষণভাবে যেকোন পাঠকের মনকে ভাবিয়ে তুলবে এক দৃষ্টিতেই। সত্য সব সময় কোমলীয় ও সুন্দর হয় যদিও এটা পুরোনো কোন মনিষীর কথন। তার অনেক দৃষ্টান্ত প্রমাণ দিয়েছেন এই বইটিতে কবি ও কথা সাহিত্যিক মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। বাংলার প্রকৃতির উপর অত্যাধুনিক যন্ত্রমানবগুলো এত্ত ভালোবাসা-লোভ-লালসা তারই এক অনবদ্য সৃষ্টি জজ নূরুল ইসলাম ও কর্ণেল শংকর রেমা ।
আমি যতবার পড়েছি লেখকের এই নন্দনীয় সৃষ্টির দার্শনিক ধাঁচের বইটির প্রতিটি লাইনের ফ্রেমে গাঁথা এক একটি রোমান্টিক ও মর্মাহত লাইন। ততবারই আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে...জাগিয়ে দিয়েছে আমার লুকায়িত সাহিত্যের দৃষ্টিপাত। বার বার  অবাক হয়ে বলতে চেয়েছি একটি সত্যিকারের সাহিত্যসাথী পেয়েছি বুঝি। লেখকের সৃষ্টির দিকে চোঁখ রাখতেই মনোযোগ গভীরে তলিয়ে গেলো “পৃথিবীতে এখন আর কেউ শব্দ করে হাসে না, কাঁদে না, মনের কথা সঠিকভাবে বলে না। সবাই নীরব হয়ে গেছে। এখন পৃথিবীতে শুধুই নীরবতা-শুধুই নীরবতা। বার বার মনের দুয়ারে হাওয়া লাগিয়ে পাতা উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে পড়েছি তার দার্শনিক এই সুন্দরতম রহস্যঘেরা উক্তিগুলো। আর অবাক হয়েই দৌঁড়ে চলে গিয়েছি সাহিত্যাকাশের শেষ সীমানা অবদী। মাঝে মাঝে আমার অজান্তেই বিশালতম প্রশ্নের ঝড় উঠেছে মনের সাহিত্যের কোমল স্তরে। তিনি দার্শনিক, নাকি লেখক? তার লেখনিতে আমি শুধু একটাই গন্ধ অক্রিজেন হিসেবে পেয়েছি তা হলো- সুন্দর মনের সৃজনশীল সাহিত্য। সমাজ-সংসার       বাস্তবতার করিডোর প্রকৃতির চরম নেশা নির্ভেজাল নিখুঁত প্রেম বন্ধুত্বের অমরত্বের বন্ধন হঠাৎ করেই ঘটে যাওয়া জীবনের ছন্দপতন সবকিছু মিশিয়ে একাকার ও সেতু বন্ধন তৈরী করে বইটিতে এক অকল্পনীয় সুন্দরের রূপে রূপায়ন করে তুলেছেন তুখোড় কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। আর  একটি কথা না বললে অসম্পন্ন থেকে যাবে আমার মনের বাসনা তা হলো- লেখক তার বইটিতে মানব জীবনের যে ব্যর্থতা ও সাফল্যের কথাগুলো তুলে ধরেছেন তার জন্য তিনি অনেক প্রশংসার দাবিদার। অকপটে যে উপদেশ আর জীবনের ছন্দপতনের কথাগুলো লেখক লিপিবদ্ধ করেছেন তার সারমর্ম দুই কলম লিখে শেষ করার মত নয়। ছোটখাট কিছু ত্র“ুটি লক্ষণীয় হওয়া স্বত্বেও “জীবন শিকল” এক নি:শ্বাসে পড়ে ফেলার মতই একটি সুখপাঠ্য বই। বইটির সুন্দর প্রচ্ছদ এঁকেছেন, অনন্ত আকাশ, বই মেলা/১৩ইং পাল পাবলিকেশন থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। মুল্য ১০০/- টাকা মাত্র।
পাঠকদের জন্য অনুরোধ- এক কপি বই সংগ্রহে রাখুন। বদলে যাবে আপনার চিন্তাধারা।

0 মন্তব্য:

Post a Comment

কিছু কথা

সাহিত্যের নতুন অধ্যায়ের জন্ম দেওয়ারই একজন কবির কাজ । -আরিফুল ইসলাম ।

Blog Archive

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ফেসবুক